মাঘের শেষ প্রান্তে শীতের তীব্রতা না থাকলেও সকালে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে নগরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জমায়েত দেখা যায়। ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব-২০২৬’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বকে ঘিরেই এই উপস্থিতি।
‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল থেকে প্রায় এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গণিত উৎসবের ২৪তম আসরে প্রাইমারি থেকে হায়ার সেকেন্ডারি স্তরের শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহ প্রধান শাখার ডেপুটি ম্যানেজার নূরুল আমিন ব্যাংকের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিয়মিত গণিতচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় জয় ও পরাজয়—দুটি ফলই থাকে। যারা নির্বাচিত হবে, তাদের অভিনন্দন। আর যারা নির্বাচিত হবে না, তাদের জন্য দ্বিগুণ শুভেচ্ছা। কারণ, তারা নিজেদের দুর্বলতা বোঝার সুযোগ পাবে। গণিত সত্য শেখায়, চিন্তার শৃঙ্খলা শেখায় এবং সমস্যা সমাধানের পথ দেখায়।’
অভিভাবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিশুদের এমন আয়োজনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ। প্রতিটি মেধাবী শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগানো সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ বন্ধু সভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল। বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, যারা গণিত ভালোবাসে, তারা যুক্তিনির্ভর ও সত্যবাদী হয়। প্রত্যেক মানুষই সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়, স্বপ্নকে বড় করতে পারলে সেই স্বপ্নের সমান বড় হওয়া সম্ভব।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক নূরুল আমিন বলেন, ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যেই ডাচ্-বাংলা ব্যাংক গণিত উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন খান বলেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে যুক্তিনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘গণিত সত্যের চর্চা শেখায় এবং সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়াতে সাহায্য করে। আমরা সবাই গণিত শিখব এবং সত্যবাদী হব।’
গণিত উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও ছিল আনন্দঘন। ময়মনসিংহ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন মোর্শেদ জানায়, ‘গণিত দক্ষতা বাড়াতে উৎসবে অংশ নিয়েছি। গণিতের সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগে।’ নেত্রকোনার দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়সী তালুকদার জানায়, গণিত করতে ভালো লাগে এবং কঠিন সমস্যায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা নেয়। টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই গণিত ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করেছে। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে চারটি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। অনলাইন বাছাই শেষে প্রায় এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেয়। এখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আজকের পরীক্ষার ফলাফল পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সিএ/এমই


