পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে বিএনপির পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আরও ১২৯টি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার গলাচিপা উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাফ খান স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, গলাচিপা পৌরসভায় বিএনপির মোট ৯টি কমিটি সক্রিয় ছিল। এ ছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অধীনে ১০৮টি ওয়ার্ড কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এসব কমিটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী গত তিন বছর ধরে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নয়, বরং শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ও রোববার (৭ ডিসেম্বর) ধাঁচে দিন-তারিখ ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় বলা যায়, ২ ফেব্রুয়ারি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং এর পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দশমিনা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি–সমর্থিত জোট প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করেই গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে কমিটি বিলুপ্তি ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
এ ছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারি দশমিনা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করে একই পদে আবুল বশারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিলুপ্ত হওয়া কমিটির অনেক নেতা-কর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কমিটি বিলুপ্ত ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। নুরুল হক নুরকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে। এটি দলকে দুর্বল করার একটি কৌশল।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছিলেন। তাই কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অবহিত করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয়। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে পরে তা জমা দেন। এর পর ৩০ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার এক দিন আগে হাসান মামুন স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সিএ/এমই


