আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবারের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১-দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তিস্তা ব্যারেজ এলাকা নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কুড়িগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। তবে ভোর থেকেই লালমনিরহাট ও পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে থাকেন। নীলফামারীর ডিমলা থেকে আসা খালেদুল ইসলাম বলেন, “ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ফজরের নামাজ পড়ে এখানে ছুটে এসেছি।”
নির্বাচনি প্রচারণায় বাড়তি আমেজ
লালমনিরহাট জেলা আমির ও লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ মূলত নির্বাচনি শো-ডাউনে রূপ নেয়। সমাবেশে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াত মনোনীত মোট ৭ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ করে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতিবান্ধা) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার ইসলাম রাজুর সমর্থনে এই সমাবেশটি বিশাল রাজনৈতিক শক্তিমত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াত আমিরকে ঘিরে বিশেষ উদ্দীপনা দেখা গেছে। হাতিবান্ধা থেকে আসা তরুণ ভোটার রউসুল আলম জানান, ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন এবং দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন।
দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জনসভাকে ঘিরে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন। কানায় কানায় পূর্ণ এই মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
সমাবেশের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী)। স্থান তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠ, লালমনিরহাট। উপস্থিতি লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা ৭ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর পরিচিতি ও নির্বাচনি প্রচারণা।
সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট
সিএ/জেএইচ


