কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দক্ষিণ শ্রীপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে হাজারো সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার দুপুর ১২টায় চৌদ্দগ্রাম সদর এলাকায় পা রাখতেই নির্বাচনী উত্তাপ স্পষ্ট। চায়ের দোকান, অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও বাজার—সবখানেই ভোট ও প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। স্থানীয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘অনেক বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার পারব, এটাই আনন্দ। তাই দল নয়, মানুষ দেখে ভোট দিতে চাই। কে নির্বাচিত হলে চৌদ্দগ্রামের উন্নয়ন হবে, সেটাই এখন মানুষ ভাবছেন।’
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভোটের মাঠে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাঁর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিটি গ্রাম ও পাড়ায় নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদা, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তুলনায় তাহের একাধিকবার নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন; সর্বশেষ ২০০১ সালে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গুণবতী বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, ‘বিগত সময়ে গুণবতী ও আশপাশের ইউনিয়নগুলো বেশি অবহেলার শিকার হয়েছে; রাস্তা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থাকেনি। এবার মানুষ বুঝেশুনে ভোট দেবেন।’
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের মানুষের প্রতি আমার অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তাই মানুষ এখন দলীয় সমর্থনের বাইরেও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানরা প্রায় সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছেন; ইতিমধ্যে কয়েকশো মেম্বারের সঙ্গে সভা করেছি। ভোটের মাঠে জনমতও আমাদের পক্ষে দেখছি। ২০০১ সালে মানুষ দ্বিগুণ ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছিল; এবার তার চেয়ে বেশি ভোট পাব বলে আমি আশাবাদী।’
তাহের দাবি করেছেন, বিএনপির একটি বড় অংশ তাঁকে সমর্থন করছে। অনেকে প্রকাশ্যে, আবার অনেকে অপ্রকাশ্যে সমর্থন করছেন। অন্যান্য দলেরও একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ভাবনায় তাঁকে সমর্থন করছে। নারীদের মধ্যে ৮০–৯০ শতাংশ সমর্থন, যা গ্রামভিত্তিক নারী সমাবেশের উপস্থিতি প্রমাণ করে।
দক্ষিণ শ্রীপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু এমপি নির্বাচনের নয়; এটি বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। অতীতে যারা সরকার গঠন করেছে, তারা খুন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করেছে। আল্লাহর রহমতে ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে। জনগণকে নেতা নির্বাচনের সময় দল নয়, ব্যক্তিত্ব বিবেচনায় ভোট দিতে হবে।’
গুণবতী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্থানীয় ও উপজেলার নেতারা বক্তৃতা করেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘তাহেরের গ্রহণযোগ্যতা দলীয় সীমার বাইরে। সাধারণ মানুষ তাঁর অতীত কাজ, সততা ও ব্যক্তিত্বের কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দেবেন।’
সিএ/এমই


