আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন প্রস্তুত লালমনিরহাট। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে তাপমাত্রা ৯° সেলসিয়াসে নামলেও রাজনৈতিক অঙ্গন এখন প্রচণ্ড তপ্ত। কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, করছেন উঠান বৈঠক ও পথসভা।
জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা)
নির্বাচনী আমেজে মুখর এই আসনটিতে বিএনপির প্রধান প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন হাসান রাজীব প্রধান। তার নির্বাচনী প্রচারণায় সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর একটি বড় ‘সাইলেন্ট ভোটার’ ব্যাংক রয়েছে, যা মূল লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির হয়ে মাঠে আছেন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।
এখানকার ভোটারদের প্রধান দুই দাবি—তিস্তা নদীর স্থায়ী সমাধান এবং তামাকের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি। প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাদের সমর্থনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ)
এই আসনে রাজনীতির এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট সভা করে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন। বিপরীতে জাতীয় পার্টিও এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে; তাদের দাবি—সুষ্ঠু সরকার গঠনে লাঙ্গল প্রতীকই সেরা বিকল্প। এদিকে জামায়াতে ইসলামীও বসে নেই, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় জোর দিচ্ছে।
কৃষক অধ্যুষিত এই এলাকায় সস্তা সার এবং কৃষি সহায়তার বিষয়টিই ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
লালমনিরহাট-৩ (সদর) জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। এখানে মূল লড়াইটা হচ্ছে ত্রিমুখী। আসাদুল হাবিব দুলু (বিএনপি) একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। তিনি যুবকদের কর্মসংস্থান এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জিএম কাদের (জাতীয় পার্টি) দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে এই আসনটি জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মো. আবু তাহের (জামায়াতে ইসলামী) স্থানীয় এই নেতা শহর ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ভোট পেতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
এই “হাই-ভোল্টেজ” লড়াই এখন পুরো জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সবার নজর এখন সদর আসনের দিকে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। শীতের তীব্রতা থাকলেও হাজার হাজার মানুষ যোগ দিচ্ছেন নির্বাচনী মিছিলে। ১২ ফেব্রুয়ারি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা দেখতেই এখন দেশবাসীর অপেক্ষা।
সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


