৯ জানুয়ারি ২০২৫ – প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নকলের সুপরিকল্পিত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন বাড়ি থেকে বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপিসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর জেলার সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অভিযান ও আটক
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের অভিযানে ওই ছয়জন আটক হন। আটকদের মধ্যে নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনারুল ইসলামও রয়েছেন। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা বেষ্টনী
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা বলেন, “আটকের বিষয়টি জেনেছি। বর্তমানে আমরা পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যস্ত। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।”
এই ঘটনার পর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, উলিপুর ও সদর উপজেলার ৪১টি কেন্দ্রে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নকল প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল – প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরীক্ষাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
আজ বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা আলোচনায় এলেও, সংশ্লিষ্ট দল বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চলছে।
এই ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অসাধু উপায়ে উত্তরে প্রবেশাধিকার রোধে সরকারি তৎপরতা কতটা কার্যকর, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রতন রায়, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।
সিএ/জেএইচ


