ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে অভিযানের অংশ হিসেবে নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রচারপত্র বিতরণের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কোনো প্রচারপত্র দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো কোনো প্রচারপত্র হাতে পাননি এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫টি ওয়ার্ডে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি সরিয়ে ফেলতে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লালমাটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মশা নিধনের সরঞ্জাম নিয়ে কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। সকাল ৯টার আগে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দলীয় ছবি তোলেন মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে তাঁরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করেন।
একটি দল মিরপুরের আদর্শনগর এলাকায়, আরেকটি দল মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকায় এবং অন্য দলটি সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় কাজ শুরু করে। সাংবাদিক আবাসিক এলাকার খালে আগে থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও কয়েকজন কর্মী মশা নিধনের ওষুধ ছিটাতে শুরু করেন।
আদর্শনগর এলাকায় দেখা যায়, প্রথমে ফগার যন্ত্র ব্যবহার করে উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য ধোঁয়া দেওয়া হচ্ছে। পরে লার্ভিসাইড ব্যবহার করে মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে ট্রলিতে তুলে নিচ্ছিলেন।
মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি এলাকায়ও মশা নিধনের কর্মীদের লার্ভিসাইড ছিটাতে দেখা যায়। পাশাপাশি একজন কর্মী হ্যান্ডমাইকে রেকর্ড করা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছিলেন, যাতে বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
অভিযানে থাকা মশক সুপারভাইজার রুবেল হোসেন, পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক সজীব আহমেদ, ভেটেরিনারি কর্মকর্তা সুরাইয়া শারমীন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সচিবের কারও কাছেই কোনো প্রচারপত্র দেখা যায়নি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদমান সাকিব বলেন, অভিযানে প্রচারপত্র থাকার কথা। পরে তিনি মশক সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, কর্মীরা এখনো প্রচারপত্র পাননি। বিষয়টি জানার পর তিনি অঞ্চল অফিস থেকে প্রচারপত্র আনার নির্দেশনা দেন।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, কর্মীরা শুরুতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছবি তুললেও পরে সেগুলো গুটিয়ে রাখেন। তাঁদের মতে, একসঙ্গে মশা নিধনের কাজ করা এবং প্ল্যাকার্ড বহন করা সম্ভব হয় না। এজন্য আলাদা কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৩টি প্রচারাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে ডিএনসিসি।
সিএ/এমই


