রাজধানীর নাগরিক সেবা প্রদানকারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে সংস্থাটি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস দিতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। আগামী মাসে নিজস্ব আয় থেকে বেতন দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন।
ডিএসসিসির প্রশাসক ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় হয়নি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব কমে যাওয়ায় সিটি করপোরেশন অর্থসংকটে পড়েছে।’
রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছরে সংস্থার রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই সময়ে মাত্র দুই মাসে শত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অর্থসংকটের পেছনের কারণ:
- ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর তড়িঘড়ি করে বিপুল পরিমাণ উন্নয়নকাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
- সাবেক মেয়রদের সময় আটকে রাখা বিলগুলো কম সময়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের কমিশন–বাণিজ্য ব্যবহারের অভিযোগ আছে।
- গত ১৯ মাসে উন্নয়নকাজের বিল হিসেবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তবে অনেক প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
- ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী তা পরিশোধ সম্ভব নয়।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন–ভাতা এবং পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে সাধারণ তহবিলে আছে মাত্র ১৬ কোটি টাকা।
রাজস্বের প্রধান উৎস:
- হোল্ডিং ট্যাক্স
- ট্রেড লাইসেন্স ফি
- বাজার ও সম্পত্তি ইজারা
- বিজ্ঞাপন ও সাইনবোর্ড ইজারা
- পার্কিং ইজারা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি, বিভিন্ন ধরনের সনদ ফি
সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় কমে গেলে মশকনিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা ও ড্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ, স্ট্রিটলাইট পরিচালনাসহ মৌলিক সেবাগুলো ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজস্ব সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থেমে যেতে পারে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ডিএসসিসির বর্তমান অর্থসংকট শুধু রাজস্ব ঘাটতির ফল নয়; প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অস্বচ্ছ ব্যয় ব্যবস্থাপনাও বড় কারণ। বিগত দুই বছরে উন্নয়নকাজের বিল পরিশোধের তোড়জোড় আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে এবং সেবা কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’
সিএ/এমই


