মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বজ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এতে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও, রমনা, পরীবাগ ও নীলক্ষেতের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের সারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে।
মোটরসাইকেলচালক অপূর্ব বিশ্বাস জানিয়েছেন, তেল নিতে নিতে দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে, বাকি সময়ের ভাড়া দিয়ে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। আগে দিনে এক বা দুইবার তেল নিয়ে সারাদিন যাত্রী পরিবহন করা যেত, এখন দিনে চার থেকে পাঁচবার তেল নিতে হচ্ছে। রাইড শেয়ারকার অপূর্ব বলেন, “এই নিয়মের ফলে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট হলো।”
এ পরিস্থিতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানের প্রতিহামলা রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ রাখায়, কাতারে এলএনজি উৎপাদনও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিপিসি তেলের দিনে নেওয়ার সীমা বেঁধে দিয়েছে। মোটরসাইকেল দিনে সর্বাধিক ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার এবং মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার তেল নিতে পারবে।
রাজধানীর হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এক থেকে দুইবার তেল নিয়ে সারা দিন বাইক চালানো যেত, এখন চার থেকে পাঁচবার তেল নিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ৬ ঘণ্টা বাইক চালাতে হয়, ৬ ঘণ্টা তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।” অন্যদিকে জাওয়াদ আল জাফির মনে করেন, “সরকারের বেঁধে দেওয়া সীমার ফলে মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে পারছে না, এটি সংকট প্রতিরোধে সহায়ক।”
তেজগাঁও, রমনা ও নীলক্ষেতের বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলচালক ও গাড়িচালকরা অভিযোগ করেন, তেল সময়মতো না পাওয়ায় রোজার সময়ে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। পাম্পের কর্মীরা সারি ঠিক রাখার জন্য তৎপর থাকলেও, সপ্তাহান্তে ডিপো বন্ধ থাকার কারণে কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধও দেখা গেছে।
সিএ/এমই


