রাজধানীর ফকিরাপুলে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেলের চালক বুলবুল আহমেদ ওরফে রুবেলকে হত্যা মামলার চার মাস পর খোরশেদ আলম ওরফে রনি নামে একমাত্র আসামিকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। নিহত বুলবুলের পালিত ভাই খোরশেদকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, খোরশেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৯ অক্টোবর ফকিরাপুলের কোমর গলির একটি বাসায় খোরশেদ ছুরিকাঘাত করে বুলবুলকে হত্যা করেন।
র্যাব সূত্র জানায়, বুলবুল মুন্সিগঞ্জে নিজের বাড়িতে স্ত্রীসহ থাকতেন এবং অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালাতেন। তাঁর মা ও ছোট ভাই ফকিরাপুলের কোমর গলির ভাড়া বাসায় থাকতেন, যেখানে খোরশেদও থাকতেন।
নিহতের ছেলে আলিফ আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, ১৯ অক্টোবর তার মা-বাবা দাদিকে দেখতে ফকিরাপুলে আসেন। ওই সময় খোরশেদ ঘুমে ছিল, কিন্তু কথোপকথনে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং খালাকে গালাগাল দেন। এ সময় বুলবুল তার কাছে জানতে চান কেন এমন আচরণ করছেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে খোরশেদ ফল কাটার ছুরি নিয়ে বুলবুলের বুকে আঘাত করেন। বুলবুলকে আটকাতে গিয়ে খোরশেদ তাঁর বাঁ কনুইতে ছুরিকাঘাত করেন। আহত অবস্থায় বুলবুল খাটে পড়ে যান এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। ঘটনার পর খোরশেদ পালিয়ে যান।
আলিফ জানান, খোরশেদ পালিত পুত্র হিসেবে তাঁর দাদার লালন-পালন পেয়েছিলেন। তবে উগ্র আচরণ ও বেকারত্বের কারণে তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। ঘটনার পর তিনি খোরশেদকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, র্যাব-৩ খোরশেদকে আটক করে মতিঝিল থানায় সোপর্দ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ বুলবুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সিএ/এমই


