ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চার গ্রামের মাতব্বরদের সংঘর্ষে না জড়ানোর শপথ করানো হয়েছে। একইসঙ্গে সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র জমা নিয়ে সেগুলোর একটি অংশ পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ উদ্যোগ নেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ মাদ্রাসা মাঠে এ শপথ ও অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ, খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগারিয়া গ্রামের আটজন মাতব্বরকে শপথ করানো হয়। এ সময় সংঘর্ষে ব্যবহৃত ৩৫টি বেতের তৈরি ঢাল ও পাঁচটি কাতরা বাঁশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়া ছয়টি টিনের তৈরি ঢাল পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শপথবাক্য পাঠ করাতে গিয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, তারা আর কোনো ধরনের কাইজ্জা-ফ্যাসাদে জড়াবেন না এবং সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। তিনি বলেন, ‘আইন কাউকেই ছাড় দেবে না—এমপি, মন্ত্রী, সবার জন্যই সমান। এরপর যে যা করবেন, আল্লাহর ওয়াস্তে হিসাব করে করবেন। কাইজ্জা-ফ্যাসাদ নয়। ভালো কাজের সঙ্গে আমি আছি, কাইজ্জা-ফ্যাসাদের সঙ্গে আমি নেই— এটা পরিষ্কার কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এসব দেখে অনেক মানুষ হাসে, বিদ্রূপ করে, আমাকে প্রশ্ন করে। এই মারামারির ঘটনায় পুলিশও আহত হয়েছে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে এত বড় সংঘর্ষে কেউ মারা যায়নি। কেউ মারা গেলে কি একটি প্রাণ ফিরে পাওয়া যেত?’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম। এ সময় বিভিন্ন গ্রামের পক্ষে বক্তব্য দেন বাবর আলী, সাধু মাতুব্বর, মিজানুর রহমান ও ফারুক হোসেনসহ অন্যরা। বক্তারা সংঘর্ষ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ায় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘাতে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কাওসার ভুঁইয়া, ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহম্মেদ, আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিয়া এবং হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টাব্যাপী এই চার গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী। এতে অন্তত ৬০ জন আহত হন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পরদিন ৫ এপ্রিল ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১২ জন আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, এমপির উদ্যোগে এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সব অস্ত্র জব্দ করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে।
সিএ/এএ


