বরিশালে গত ছয় মাস ধরে শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের বিসিজি টিকা প্রদান বন্ধ রয়েছে। ভ্যাকসিন মজুদ থাকলেও সিরিঞ্জ সংকটের কারণে এই টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভিড় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিসিজি টিকার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
অনেক অভিভাবকই জানেন না যে, তাদের সন্তান নির্ধারিত সময়ে যক্ষ্মার টিকা পাচ্ছে না। কেউ কেউ টিকাকার্ড দেখে বিষয়টি বুঝতে পারছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বারবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও বিসিজি টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, সিরিঞ্জের অভাবের কারণে শুধু বিসিজি টিকা বন্ধ রয়েছে, অন্যান্য টিকা কার্যক্রম চালু আছে। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণেও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বিসিজি ছাড়া অন্যান্য টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। হামের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিঞ্জ সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ, যা মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া সহ নানা উপসর্গ সৃষ্টি করে। শিশুদের জন্মের পরপরই এই টিকা দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
সিএ/এমআর


