বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে বিকল্প পদ্ধতি। অক্সিজেন হুডের অভাবে গৃহস্থালির প্লাস্টিকের পট কেটে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী ‘হেডমাস্ক’, যা দিয়ে শিশুদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এমন দৃশ্য দেখা যায়। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা জন্মগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য অক্সিজেন হুড প্রয়োজন হলেও সেটির অভাবে স্থানীয়ভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
একজন অভিভাবক জানান, তার সাত মাস বয়সী শিশুকে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা না থাকায় বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের তৈরি হেডমাস্ক ব্যবহার করা হয়। পরে শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
তবে এ ধরনের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক। তাদের মতে, প্লাস্টিকের পট ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে শিশুদের গলায় আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শয্যা সংকটের কারণে একাধিক শিশুকে একই বিছানায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা জন্মগত শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য অনেকসময় অক্সিজেন সরবরাহে প্রয়োজন হয় অক্সিজেন হুডের। এর আগে কখনও সেটির ব্যবহার না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি এই প্লাস্টিকের পট দিয়েই অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘যে কারণে এটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই কাজ হচ্ছে। এছাড়া এটা ব্যবহারে ক্ষতির কোনো কারণ নেই। শিগগিরই অক্সিজেন হুড আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
সিএ/এমআর


