রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার দুই বছর পর তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুন লাগার পর কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জিসানের নির্দেশে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কোনো গ্রাহক বিল পরিশোধ না করে বের হতে না পারেন। এতে ভেতরে আটকা পড়া অধিকাংশ মানুষ ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
ঘটনার দিন ভবনটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভিড় ছিল। লিপইয়ার উপলক্ষে ছাড় দেওয়ায় অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভবনটিতে নিয়ম না মেনে একাধিক রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রাখা ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ছাদের দিকে যেতে চাইলেও অবৈধভাবে নির্মিত ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্টের কারণে সেখানে আশ্রয় নিতে পারেননি। সিঁড়িপথও বাধাগ্রস্ত থাকায় নিচে নামার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
তদন্তে বলা হয়েছে, ভবনটিতে জরুরি নির্গমন পথ ছিল না এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
ঘটনায় ৪৬ জনের মধ্যে ৩ জন আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ৪৩ জন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে মারা যান।
অভিযোগপত্রে ভবনের নিচতলায় একটি কফি শপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবনটির মালিকপক্ষসহ মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে জামিনে আছেন, বাকিরা পলাতক।
ঘটনার পর রমনা থানায় মামলা হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডি।
সিএ/এমআর


