নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় টানা ঝড়-বৃষ্টির পর বোরো ধানের ক্ষেতে নতুন করে দেখা দিয়েছে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) বা পাতাপোড়া রোগ। এতে করে কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে, বিশেষ করে শীষ বের হওয়া ধানে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোরো মৌসুমে নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগে পচন ও মাজরা পোকার আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন নতুন করে পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ধানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পুরো ক্ষেতই আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শীষ বের হওয়া ধানের পাতাগুলো খয়েরি রং ধারণ করে ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে আক্রান্ত চারা প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেক কৃষক ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন ফসল রক্ষার আশায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কেন্দুয়ায় প্রায় ২০ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। রোয়াইলবাড়ি, কান্দিউড়া ও চিরাং ইউনিয়নের কিছু স্থানীয় জাতের ধানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির পর বাতাসের মাধ্যমে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীষ বের হওয়ার সময় এ রোগ দেখা দিলেও ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। সঠিক মাত্রায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল কীটনাশক প্রয়োগ করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
রোয়াইলবাড়ি এলাকার কৃষক হলুদ মিয়া বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছি। টানা বৃষ্টির পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিছু জমির চারার পাতাগুলো শুকিয়ে গেছে। এসব জমিতে নিশ্চিত ফলন বিপর্যয় ঘটবে।’
অন্য কৃষক হাবিব মিয়া জানান, ‘এবার পাতাপোড়া রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। অবস্থা দেখে অনেক কৃষকই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কৃষিকর্মী ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করছি।’
কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘এই রোগকে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট বা সংক্ষেপে বিএলবি বলা হয়। এ উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। জমিতে এমওপি (পটাশ) সারের ঘাটতির কারণে এ রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধানের চারা আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে জমি শুকনো রাখতে হবে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ রোগে বোরো ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।’
সিএ/এএ


