বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর-কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ে চুল ছোট রাখা ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক সহকারী শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও তার স্বজনদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাকদীর হোসেন তোহাকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার (টিসি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে প্রাত্যহিক সমাবেশের সময় তাকদীর হোসেন বড় চুল এবং নির্ধারিত ইউনিফর্মের পরিবর্তে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে বিদ্যালয়ে আসে। এ সময় সহকারী শিক্ষক জহুরুল বাশার আপেল তাকে নিয়ম মেনে চুল ছোট করে এবং সঠিক পোশাক পরে আসার নির্দেশ দিয়ে বাড়িতে পাঠান।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীটি বাড়িতে গিয়ে তার বড় ভাই সামিউল ও বাবা এজাজুর রহমানকে বিষয়টি জানায়। পরে তারা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক জহুরুল বাশারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তদের আটকে রাখে।
খবর পেয়ে স্থানীয় এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষক জহুরুল বাশার আপেল বলেন, ‘৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি। ওই শিক্ষার্থী ফুটবলারদের মতো লম্বা চুল নিয়ে আসায় তাকে নিয়ম মানতে বলা হয়েছিল। এর পরই সে তার স্বজনদের নিয়ে এসে আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু জানান, ম্যানেজিং কমিটির জরুরি বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘পুরো বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক অত্যন্ত উদারতার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ করেননি। তবে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব পক্ষ সজাগ থাকবে।’
সিএ/এএ


