মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, মার্চ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় তিন গুণের বেশি, যখন দুইজন নিহত হয়েছিল।
এমএসএফ জানায়, মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৬টি ঘটনায় ৪০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতের ২ জন, ১ জন নারী এবং ১ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অজানা।
একই সময়ে কারাগারে ১১ জন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আরও ২ জন মারা গেছেন। এমএসএফ মনে করে, বন্দীদের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হেফাজতে মৃত্যুর কারণ তদন্ত করা হলে এ ধরনের মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চে ২৮৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা গত মাসের তুলনায় ৩৬টি বেশি। এর মধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৫টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি। চারজন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিংসতা ও কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্চে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা কমলেও সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদানের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ১০টি ঘটনায় ৩০ জন সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে ৫৩টি, যার মধ্যে ২ শিশু, ২ কিশোর, ১৩ নারী ও ৩৬ পুরুষ। এছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী নির্যাতনের ৮টি ঘটনা এবং ১০টি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ দিনে ৩৪২টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এমএসএফ মনে করে, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ি, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ এবং হাইওয়ে পুলিশের অপর্যাপ্ত তৎপরতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
সিএ/এমই


