উৎসবের আনন্দে অসচেতনতা ও বেপরোয়া যানবাহন চালনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। চলতি মাসে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান পঙ্গু হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ২৫৫ জন।
রোববার ঢাকার এই হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত অনেককে ভর্তি করা হয়েছে এবং অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঈদের দিন আনন্দ করতে গিয়ে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজু নামের এক যুবক পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একইভাবে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে অটোরিকশার দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সন্তানসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন শাকিল মিয়া।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় আহত অসংখ্য মানুষ বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এতে অনেক পরিবারের ঈদের আনন্দ পরিণত হয়েছে উদ্বেগে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই আহত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
নিটোরের সহকারী অধ্যাপক ডা. জীবানন্দ হালদার বলেন, ঈদের জন্য আমাদের আলাদা কাজের তালিকা (রোস্টার) থাকে। যেটা আমরা সেন্ট্রাল রোস্টার বলি। যেখানে কিছু সংখ্যক ডাক্তার ইউনিট ভাগ করে কাজ করে থাকেন।
ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মদ বলেন, দুপুর থেকে কাজের চাপ বাড়তে থাকে। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি এবং অটোরিকশার অ্যাকসিডেন্টের রোগী বেশি এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এসব দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, আধনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। যেমন ওভার স্পিড করলে ক্যামেরাতে ধরা পড়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া। এছাড়াও দুর্ঘটনারোধে সব যানবাহন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মনিটরিং ও স্কুল থেকেই সড়ক নিরাপত্তার শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এটার একটা গভীর ছাপ পড়ে।
চলতি মাসে আজ দুপুর পর্যন্ত শুধু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৪ জন গুরুতর আহত রোগী। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরলেও অনেকে অঙ্গহানির শিকার হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
সিএ/এমআর


