শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন অমর একুশে বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশক ও বিক্রেতারা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টিতে অনেক স্টলে পানি ঢুকে বই ভিজে যায়। এতে বিশেষ করে ছোট স্টলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ভিজে যাওয়া বই রোদে শুকাতে দিচ্ছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। কেউ কেউ বই প্লাস্টিকে মুড়ে রাখছেন, আবার কেউ স্টলের সামনে বই মেলে দিয়েছেন।
শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাকটিভিটি, গল্প ও শেখার বই প্রকাশ করে গুফু পাবলিকেশন। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী মো. সুলতান জানান, শুক্রবারের বৃষ্টিতে তাঁদের স্টলের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বই ভিজে গেছে। তিনি বলেন, এ বছর এমনিতেই বিক্রি কম। তার ওপর বৃষ্টিতে বই ভিজে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
বৃষ্টিতে শিশুদের সিঙ্গাপুর ম্যাপ, গল্পের সিরিজ, আর্ট খাতা, বর্ণ শেখার ফ্ল্যাশ কার্ডসহ নানা সামগ্রী ভিজে গেছে। মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এসব বই আদৌ বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন বিক্রেতারা।
থ্রিলারধর্মী বই বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান বিবলিওফাইলের বিক্রয়কর্মী জুবায়ের আহমেদ বলেন, তাঁদের স্টলে থাকা ১৫০টির বেশি বই ভিজে গেছে। এসব বই বিক্রি হলেও লোকসানে বিক্রি করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো আর বিক্রিই করা সম্ভব হবে না, কারণ মলাট নষ্ট হলে ক্রেতারা সাধারণত বই কিনতে চান না।
এদিকে ঝড়ে কিছু স্টলের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আদী প্রকাশনের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামতের কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক সুজন আহমেদ জানান, তাঁদের স্টলে থাকা দুই শতাধিক বই ভিজে গেছে। ঝড়ের সময় সিলিং ভেঙে পড়ে বণিক শাহরিয়ার নামের একজন লেখক আহত হন। ভিজে যাওয়া বইগুলো পরে বাংলাবাজারে মূল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার ছিল বইমেলার ষষ্ঠ ও শেষ শিশুপ্রহর। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু ও অভিভাবকেরা মেলায় আসেন। কেউ মা–বাবার সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বই কিনতে আসেন।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে মেলায় এসেছে নুসরাত নিহা। সে কৌতুক ও গল্পের বই কিনতে চায়। তার ভাষায়, গল্পের বই পড়তে বেশি মজা লাগে, তাই সে ম্যাজিক বইও কিনবে।
নিহার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, মেয়েকে নিয়ে আগেও একদিন মেলায় এসেছিলেন। সেদিন সে পাপেট শো দেখেছিল এবং কিছু বইও কিনেছিল। মেলা শেষ হওয়ার আগে আরেকবার ঘুরে দেখতে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন।
শিশুপ্রহরের অন্যতম আকর্ষণ কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের মঞ্চেও বৃষ্টির প্রভাব পড়ে। শুক্রবার রাতের ঝড়ের পর মেলা প্রাঙ্গণে বিদ্যুৎ না থাকায় সবকিছু কিছুটা এলোমেলো হয়ে যায়। পরে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাপেট শো আবার শুরু হয়।
অমর একুশে বইমেলা শেষ হওয়ার কথা রোববার। এ কারণে শেষ সময়ে ভিড় বাড়লেও বৃষ্টির ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেক প্রকাশক ও বিক্রেতা।
সিএ/এমই


