পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখী মানুষ। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে শনিবার (১৪ মার্চ) কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে ঈদযাত্রা শুরু হলেও স্টেশনে তেমন অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটগামী জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। এর প্রায় ১০ মিনিট পর তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস স্টেশন ত্যাগ করে। দুটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছাড়ায় যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁর এখনো অফিসের ছুটি শুরু হয়নি। তবে সন্তানদের স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারকে আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে স্টেশনে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ভোগান্তি হয়নি। টিকিট সহজে কাটতে পেরেছি। ট্রেনও ঠিক সময়ে ছাড়ল।’
ঈদ উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে একসঙ্গে গফরগাঁও যাচ্ছেন একটি মাদ্রাসার ১১ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে বয়সে বড় আহমদ আমিন বলেন, প্রতিবার মাদ্রাসা ছুটি হলে তাঁরা এভাবেই একসঙ্গে বাড়ি যান। এবার টিকিট সংগ্রহেও কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড় নেই। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া অন্তত পাঁচটি আন্তনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়েই স্টেশন ত্যাগ করেছে। ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীরা জড়ো হলেও ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবার প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হয়ে যায়। বেশির ভাগ ট্রেনেই সিটের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়নি।
ঈদে সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই স্টেশনে এসেছেন ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ। তিনি মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে বাড়ি ফিরছেন। হারুন বলেন, ‘ঈদের সময় রাস্তায় যানজট হয়। তাই আগেভাগে স্টেশনে এসেছি। অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি, একটু এক্সাইটমেন্টও আছে।’
ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমলাপুর রেলস্টেশনে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
সিএ/এমই


