আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভ্রমণকারী যাত্রী, চালক এবং সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যাত্রা পরিকল্পনা করবেন এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখবেন। চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে চাপ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাস, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের ছাদে বা অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে, রাস্তা পারাপারের সময় জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করবেন। যেখানে এই ধরনের সুবিধা নেই, সেখানে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদে রাস্তা পার হতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাসচালকদের জন্য বলা হয়েছে, ওভার স্পিডে গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্লান্তি, অবসাদ বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলের সময় পুলিশ নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নৌপথে যাত্রীদের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌযানে ওঠা বা ছাদে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযানে ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। স্পিডবোটে ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। নৌযানের মালিকদের জন্য বলা হয়েছে, নির্ধারিত সংখ্যক গ্রেডের মাস্টার ও চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনা করতে হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে বন্দর ত্যাগ করা, ডেকের যাত্রীদের বসার স্থানে মালামাল পরিবহন না করা, পর্যাপ্ত সংখ্যক বয়া ও লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিন শুনতে হবে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া নৌযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্রেনযাত্রীদের জন্য পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে, ট্রেনের ছাদ, বাফার, পাদানি ও ইঞ্জিনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ না করা, পাথর নিক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখা। বিনা টিকিটে ট্রেনভ্রমণ না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুম, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।
সিএ/এমই


