ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর ওপর নিপীড়ন এবং ১৫টি গারো পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এ সমাবেশে আদিবাসী ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠনসমূহের ব্যানারে আন্দোলন দেখানো হয়।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদপুর রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্য কর্তৃক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী ও শিশুর ওপর নিপীড়ন, বসতভিটা ভাঙচুর, গড়গড়িয়ায় প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করে কৃত্রিম লেক খনন এবং সিলেটের খাদিমনগরে ১৫টি গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা বাঙালিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে স্বাধীনতার বহু বছর পরে এসেও তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আদিবাসীদের অধিকারের প্রতি আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ দেখা যায়নি।
বক্তারা মধুপুরে গারো পরিবারে হামলা, ভাঙচুর এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর ওপর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। তারা সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে মধুপুরে বন বিভাগের কৃত্রিম লেক খননের প্রকল্প বাতিল এবং তথাকথিত সব উন্নয়ন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে সিলেটের খাদিমনগরে ১৫টি গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আগামী দিনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অর্থ সম্পাদক জানকী চিসিম।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নারী সম্পাদক অনন্যা দ্রং, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিলসহ অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন।
সমাবেশ শেষে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সিএ/এমই


