প্রকৌশলবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নাজমুন নাহার মুন্নিকে। তিনি জানান, মেয়ে হয়ে কেন এই বিষয়ে পড়াশোনা করলেন—এমন প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়েছে তাঁকে। পরে কর্মজীবনে প্রবেশের পর প্রশ্নের ধরন বদলে যায়। অনেকেই জানতে চাইতেন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় একজন নারী কীভাবে কাজ করবেন কিংবা ভারী যন্ত্রপাতি ও পাওয়ার প্ল্যান্টের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন কি না।
তবে এসব প্রশ্ন ও সংশয়কে উপেক্ষা করেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন নাজমুন নাহার মুন্নি। তিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণের পথে আত্মবিশ্বাসই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেশাজীবনে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, মেধা ও পরিশ্রমের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোনো বিভাজন নেই।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করার পরই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তিনি। কামিন্স, এমডব্লিউএম কিংবা গুয়াসকরের মতো বড় জেনারেটর এবং জটিল সাবস্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজের অংশ। সে সময় অনেকেই মনে করতেন, জেনারেটর রুমের তেল-কালি আর যান্ত্রিক জটিলতার ভেতরে কাজ করা একজন নারীর জন্য কঠিন। কিন্তু নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করেই তিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন।
পাওয়ার ফ্যাক্টর ক্যালকুলেশন থেকে শুরু করে জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান—প্রতিটি ধাপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন নাজমুন নাহার মুন্নি। দীর্ঘ তেরো বছরের কর্মজীবনে তিনি শুধু একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, পাশাপাশি একজন মা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, তিন বছরের সন্তান যখন তাঁকে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে দেখে, তখন তিনি চান সন্তান জানুক—তার মা একজন লড়াকু মানুষ। সংসার, সন্তান এবং বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্টের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল না। তবু গভীর রাতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের ডাক এলেও ক্লান্তি ভুলে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিকতাই তাঁকে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।
যন্ত্রের গর্জনের মাঝেও যখন নিখুঁতভাবে কোনো জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারেন, তখন যে তৃপ্তি পান সেটিই তাঁর দীর্ঘ তেরো বছরের পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য তাঁর আত্মবিশ্বাস ও অর্জিত দক্ষতায় নিহিত। সমাজ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার আগেই নিজের দক্ষতায় সেই সীমানা অতিক্রম করার সাহস থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
সিএ/এমই


