ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও বাড়তে দেখা যায়। এতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নয়টি সুপারিশ করেছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং–এর সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এবং পথচারীদের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারা দেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হন। এর আগে ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩৯ জন।
বিআরটিএর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি যে নয়টি সুপারিশ দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত গাইডলাইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ঈদের সময় নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা; মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োগ নির্দেশিকা তৈরি করা; ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা; চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পোসহ ব্যাটারিচালিত যান ও ভটভটির চলাচল বন্ধ করা; মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালানো ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ; পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা ও পদচারী–সেতুর ব্যবহার বাড়ানো; সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংস্থাটি মনে করে, এসব সুপারিশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমবে। পাশাপাশি ঈদের মতো বড় উৎসবে মানুষ নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।
সিএ/এমই


