মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১০ মার্চ দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দী কালু ৬০, রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন ৪০, বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম ৪৪ এবং রাসেল হোসেন ৪২ কে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন ও খাইরুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি নেতা সারগিদুল ইসলাম।
সম্প্রতি সারগিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপির একটি প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপুকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে সারগিদুল ইসলামের সমর্থকরা পরিষদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
গাংনী এলাঙ্গী ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জোয়ার্দার বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সিএ/এমআর


