গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও সন্তানদের জন্য সরকারি ভাতা চালুর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে এবং তাদের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষা ও জীবিকা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পরিবারকে সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া পরিবারের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি লিখে আবেদন করা হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং কেউ বড় পদে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাদের সন্তানরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়ে আছে।
তিনি বলেন, এসব পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের নতুনভাবে জীবন গড়ার সুযোগ তৈরি করা এখন সবার দায়িত্ব হওয়া উচিত।
মির্জা ফখরুল এ সময় সানজিদা তুলির সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তাকে একজন সত্যিকারের নায়ক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে তুলি এককভাবে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যা প্রশংসনীয়।
তিনি ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চলচ্চিত্রে দেশের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্র অর্জনের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় সংগ্রাম রয়েছে, কিন্তু সেসব নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য ও শিল্পকর্ম খুব বেশি তৈরি হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন উদ্যোগগুলো দেশের সংগ্রামের ইতিহাস বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্দোলনে নিখোঁজ বা নিহত অনেক ব্যক্তির সন্তানদের তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। অনেকেই বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশুকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।
সিএ/এমআর


