কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা এলাকায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রংপুর র্যাব-১৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামির নাম মো. আবুল কালাম (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিকটিম শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শাহিদা খাতুন ও তার ছোট ভাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেন। তবে নির্ধারিত দিনে অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
পরবর্তীতে গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা খাতুন বাড়ির উঠানে টিউবওয়েলের পাশে রান্নার জন্য চাল ধুতে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল ৫ মার্চ রাতে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় বদরগঞ্জের একটি বাড়ি থেকে মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. আবুল কালামকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকায়।
গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোম্বামী জানান, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
সিএ/এমআর


