বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে তিনি প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রচারণা চালিয়েছেন, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং বন উজাড়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতেই তিনি এই কর্মসূচি হাতে নেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে জিনতলা এলাকা থেকে এই সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু হয়।
প্রচারাভিযানটি বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা থেকে শুরু হয়ে চরলাঠিমারা, হরিণঘাটা ও পদ্মা হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে রুহিতা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে তিনি এবং অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন।
পথে বিভিন্ন স্থানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথের বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট ছোট পথসভাও আয়োজন করা হয়।
এই প্রচারণায় তার সঙ্গে সহযোগিতা করেন মো. সোহাগ আকন, মাইনুল ইসলাম ও শোয়েব তাসিন। তারা জানান, পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় শফিকুল ইসলাম খোকনের উদ্যোগ তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
সহযোগী সোহাগ আকন ও শোয়েব তাসিন বলেন, ‘আমরা শফিকুল ইসলাম খোকনের কাজে অনুপ্রাণিত হই। সব সময়ই তিনি ভিন্ন এবং ব্যতিক্রমধর্মী নিয়ে কাজ করে থাকেন। তার দেখাদেখি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করায় উদ্ভুদ্ধ হয়েছি।’
শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সবাই সচেতন হলে পরিবেশের ভারসাম্য রা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি জানান, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী হরিণঘাটা বনসহ আশপাশের এলাকায় বন বিভাগের একাধিক বনায়ন রয়েছে এবং এসব এলাকা বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন করতেই তিনি এই অঞ্চলকে প্রচারণার জন্য বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আ. রশিদ রাঢ়ি বলেন, ‘বাঘ যদি বলে না থাকে তাহলে যেমন বন থাকবে না, তেমনি বন না থাকলে বন্যপ্রাণীও টিকবে না। বনের কাছের বাসিন্দাদের আগে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলমসহ সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে।
সিএ/এমআর


