মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো পাম্প খোলার খবর পাওয়া গেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন মানুষ। অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল সংগ্রহ করছেন। তবে অপেক্ষা করেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে পাম্পগুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাস ও ট্রাকগুলো তাদের নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প মালিকরা নিয়মিত গ্রাহকদের ফোনে ডেকে নিয়ে বন্ধ পাম্প খুলে তেল দিয়ে আবার বন্ধ করে দিচ্ছেন। তবে অনিয়মিত বাস ও ট্রাকগুলোকে তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে সম্ভাব্য তেল সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করতে শুরু করেন। ফলে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে যায়। বর্তমানে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতেও। বোরো ধান চাষের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের কৃষক ওহিউল ইসলাম জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন এবং তার শ্যালো মেশিনের অধীনে প্রায় আড়াইশ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে অল্প অল্প করে ডিজেল পেয়েছি। কিন্তু গত দুই দিন ধরে কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। ফলে ধানের জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
একই গ্রামের আরেক কৃষক কফেল উদ্দিন বলেন, ধান চাষের এই সময়ে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘ডিজেলের অভাবে দুই দিন ধরে জমিতে পানি দিতে পারিনি। জমি শুকিয়ে গেলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কৃষকদের আগে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান জানান, তেলের দাম বাড়তে পারে এবং সংকট তৈরি হতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি তার পিকআপ ও মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বের হন। তিনি বলেন, ‘পাঁচটি পাম্প ঘুরে শেষে একটি পাম্পে কিছু তেল পেয়েছি। মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ টাকার অকটেন নিতে পেরেছি। তাও পুলিশ লাইনের পাশের নুর ফিলিং স্টেশন থেকে। অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ রয়েছে।’
সিএ/এএ


