ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫। বুধবার (৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের মামলার নিষ্পত্তি পর ঘোষিত হবে।
ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি প্রার্থীরা মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪ ভোট পান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পায় ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯ ভোট। ২৯৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৫। এর মধ্যে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ১৯৩ জন ভোট দেন। ভোট পড়ার হার ৬০.২৪ শতাংশ। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ১১৩।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ২১১টি আসন জয়ী হয়েছেন (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনসহ)। তাদের বৈধ ভোটের হার ৪৯.৯৭ শতাংশ। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা ৬৮টি আসন জয়ী হন, ভোটের হার ৩১.৭৭ শতাংশ।
অন্যান্য দলের মধ্যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। প্রার্থীরা পেয়েছেন ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট (বৈধ ভোটের ৩.০৫ শতাংশ)। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন পেলেও মোট ভোট পেয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৭, ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ। খেলাফত মজলিস একটি আসন এবং ভোট পেয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০ (০.৭৬ শতাংশ)। গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে জয়লাভ করেছে, ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮১২ (০.১৪ শতাংশ)। গণঅধিকার পরিষদ একটি আসনে জয়লাভ করেছে, ভোট পেয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫১১ (০.৩২ শতাংশ)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করেছে, ভোট পেয়েছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৪০। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি একটি আসনে জয়ী, ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৭৯ (০.১৪ শতাংশ)। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টির বেশি দলের মধ্যে বাকি ৪১টি দল ১ শতাংশও ভোট পাননি।
পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল অনুযায়ী, দেশ ও বিদেশ থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে বাতিল ভোট ৫৭ হাজার ৮৯৮। ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। দুটি আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।
ভোটের হারে শীর্ষে চুয়াডাঙ্গা-২ (৭৮.২৭%) এবং সর্বনিম্ন ঢাকা-১২ (৩৭.৪২%)। নির্বাচনে ৫০টি দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২০২৮ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১৩৪৭ জন জামানত হারিয়েছেন। প্রতি প্রার্থীর জামানত ছিল ৫০ হাজার টাকা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জামানত হারানো প্রার্থীদের মোট অর্থ প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ভোটের ফলাফল গেজেট প্রকাশের পর কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। চ্যালেঞ্জের জন্য ৪৫ দিন সময় রয়েছে। এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে যারা জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন, তাদের আবেদন করতে হবে।
সিএ/এএ


