চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের চেষ্টা ও গলা কেটে হত্যার শিকার শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে গ্রামের বাড়ির পাশের কবরস্থানে। তবে দাফনের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি ইরার বাবা মনিরুল ইসলাম। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের কারণে মেয়ের শেষ মুখ দেখা এবং কবরে মাটি দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় গভীর কষ্টে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এখন প্রায় প্রতিদিনই মেয়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং তার কাছে ক্ষমা চাইছেন।
গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকার হাম্মাদিয়া মসজিদ কবরস্থানে ইরাকে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, দাফনের সময় বাবা মনিরুল ইসলাম সেখানে থাকতে পারেননি। এতে তিনি ভীষণ মানসিক আঘাতে ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকায় ইরাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, মনিরুল ইসলামের পরিবার রিকশা ও ভ্যানগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ইরার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারসহ প্রতিবেশীরাও শোকাহত। ইরার সত্তরোর্ধ্ব দাদি রহিমা বেগমসহ স্বজনরা অঝোরে কাঁদছেন। প্রতিবেশীরাও পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা শেষে যখন ইরাকে অপারেশন করতে নিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি ওই রুমের সামনে ছিলাম। ওখান থেকে সীতাকুণ্ড থানা ও ডিবি পুলিশের দল আমাকে ধরে হাসপাতালের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ওখানে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সীতাকুণ্ড থানায় নিয়ে আসে। ওই দিন রাতে ১টা পর্যন্ত থানাতে ছিলাম। কথাবার্তা বলার পর আমার স্ত্রী রোকেয়া বেগম মামলা করল। ওই রাতেই ১টার পর আমি থানা থেকে ফিরে এসে আবার হাসপাতালে চলে যাই।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোররাতে ইরা মারা গেলে তার চাচা রমিজ উদ্দিনসহ কয়েকজন স্বজন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। সকালে ময়নাতদন্তসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বও নেন তার চাচা। এ সময় মনিরুল ইসলাম বাড়িতে ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে মনিরুল ইসলাম বাড়িতে মেয়ের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে বিকেল তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি দল এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এর কিছু সময় পরই বাড়িতে পৌঁছায় ইরার মরদেহ। বাবার অনুপস্থিতিতেই জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, মঙ্গলবার থানায় নিয়ে গিয়ে তাকে ওসির কক্ষে নির্যাতন ও মারধর করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসামি বাবু শেখ মেয়ের বাবাকে এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করায় তাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হওয়ায় তাকে মেয়ের জানাজায় অংশ নিতে গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সিএ/এএ


