জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে সংসদে আইনে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনরা মনে করছেন, যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশসমূহের ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়, তাহলে কমিশন আবারও দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। এতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও প্রতিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলনকক্ষে কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
সভায় ভুক্তভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তা কমিশনের সামনে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে আইনি সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতার ঘাটতির কারণে কমিশন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় উপস্থিত র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৫ কমিশনকে শক্তিশালী করেছে। আমাদের মতো ভুক্তভোগীদের প্রতিকার নিশ্চিত করতে এই অধ্যাদেশগুলো যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা চাই, কমিশনকে প্রদত্ত ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরিত হোক।’
গুমের শিকার এক ভুক্তভোগীর ছেলে জাহিদ বলেন, ‘বর্তমান কমিশনাররা মানবাধিকারকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।’
কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের পক্ষে দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশসমূহ অক্ষুণ্ণ রেখে তা দ্রুত আইনে পরিণত হওয়ার আশা করি।’
কমিশনার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, কমিশন মানবাধিকার সুরক্ষায় পক্ষপাতদুষ্ট হবে না এবং ন্যায়সংগতভাবে কাজ করবে। কমিশনার মো. নূর খান বলেন, একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কমিশন ভুক্তভোগীদের পাশে থাকবে এবং কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
কমিশনার ইলিরা দেওয়ান বলেন, কমিশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কমিশনার নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকবে কি না, এ বিষয়ে তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, অধিকারের সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর মৃত্যুর শিকার জনির ভাই রকি, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর শিকার ফারুকের স্ত্রী, জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে মাথায় গুলিবিদ্ধ কাজল মিয়া, গণপিটুনিতে নিহত দিপু দাসের পরিবার এবং গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা। এছাড়া গুমের শিকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানও বক্তব্য দেন।
সিএ/এমই


