প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও মালয়েশীয় নাগরিক প্রেমিত সিং, টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন একই আদালত।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা টুশো করপোরেশনের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নাভানা লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে টয়োটা ব্র্যান্ডের একক পরিবেশক হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে বাজার পরিস্থিতি–সংক্রান্ত মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে গত ৮ ডিসেম্বর পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের অর্ডার করা যানবাহনের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছেন। পাশাপাশি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করায় নাভানা লিমিটেডের স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নাভানা লিমিটেড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমস–সংক্রান্ত জটিলতা ও সম্ভাব্য জরিমানার ঝুঁকিতেও পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিএ/এমই


