ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল–সংলগ্ন ফুটপাত থেকে তাঁকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরে পুলিশ ঘটনাটিকে ভুল–বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছে।
আটক যুবকের নাম মাহবুবুর রহমান। জানা গেছে, তিনি পার্শ্ববর্তী পলাশী মার্কেটে দুধ সরবরাহের কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়।
বুধবার রাতে ফেসবুকে এ ঘটনা নিয়ে একটি পোস্ট দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশের ফুটপাতে এক পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই যুবককে হাতেনাতে আটক করেন। পরে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত না করে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সর্বমিত্র চাকমা তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অভিযুক্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, শয়তানের প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি জানেন না তিনি কীভাবে এ কাজ করতে গেছিলেন।’
তবে মামলার বাদী হওয়ার মতো কেউ না থাকায় এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘না না, এ রকম (ধর্ষণচেষ্টা) কিছু না। ওটা একটা ভুল–বোঝাবুঝি। ক্যাম্পাসে খাবার ডেলিভারি দিতে আসা এক যুবক ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। এ সময় সেখানে বসে থাকা এক পথশিশুর সঙ্গে কথা বলতে যান। ভয় পেয়ে মেয়েটি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময়ে ক্যাম্পাসের তিন-চারটা ছেলে দেখেছে সে সাইকেল নিয়ে থেমেছে, যার ফলে তাদের মধ্যে ভুল ধারণা (মিসকনসেপশন) হয়।’
ওসি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে ওই যুবককে শাহবাগ থানার গেটের সামনে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তাকর্মীরা নিশ্চিত হন যে ঘটনাটি মূলত একটি ভুল–বোঝাবুঝি। কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাই পরে যুবকটিকে ছেড়ে দেন।
সিএ/এমই


