অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি সরকারে দায়িত্ব পালনকালে কিংবা এর আগে-পরে জীবনের কোনো সময়েই দুর্নীতিতে জড়াননি। নিজের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া নানা অভিযোগ ও গুজবের প্রেক্ষাপটে বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।
‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর আগে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে চলে গেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে তার রেকর্ড থাকে এবং তা গোপন রাখা যায় না। এ বিষয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জও করেছিলেন—প্রমাণ থাকলে তা তুলে ধরার জন্য। আট মাস পার হলেও কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আমেরিকা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরেও তাঁর কোনো বাড়ি বা সম্পদ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তাঁর ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন আসিফ নজরুল। তিনি লেখেন, এসব অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, পরে তা কপি-পেস্ট হয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টে তিনি তিনটি বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রথমত, তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে বা জীবনের অন্য কোনো সময়ে এক টাকাও দুর্নীতি করেননি। কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব খোলেননি, নতুন সম্পদ অর্জন করেননি এবং আয়কর দেওয়ার সময় কোনো সম্পদ গোপন করেননি। তাঁর ভাষায়, দুর্নীতি করার প্রশ্নই আসে না।
দ্বিতীয়ত, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কোনো সুবিধা দেননি। প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেননি এবং আত্মীয়রা কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগ পাননি।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন, উপদেষ্টা থাকাকালে নিজ এলাকার জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা আদায় করেননি। গ্রামের বাড়ি বা বেড়ে ওঠা এলাকায়ও যাননি। তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নিয়ম মেনে কিছু আর্থিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করেছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নে অনুদান আনার কথা উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা সহ্য করে যাচ্ছেন। তবে দিনশেষে এসব অভিযোগে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সিএ/এমই


