মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি এক বিরল প্রজাতির ‘হলুদ শিমুল’ ফুল ফুটে দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে।
পার্কের পথের ধারে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার পাতাঝরা শিমুল গাছটি চোখে পড়ে। ডালে ডালে ফুটেছে অসংখ্য উজ্জ্বল হলুদ ফুল। কোথাও একটি, কোথাও দুই-তিনটি, আবার কোনো ডালে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল ঝুলছে। সবুজ ও আধফোটা অসংখ্য কলিতে ভরা গাছটি শীতের শেষে প্রকৃতিকে নতুন রঙে রাঙিয়ে তুলেছে।
বার্ড পার্কের মসজিদ প্রাঙ্গণে নানা প্রজাতির ফুলগাছের সমাহার রয়েছে। রঙে-রূপে, গন্ধে-গুণে সমৃদ্ধ এসব গাছ প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। তবে সবার নজর কাড়ছে হলুদ শিমুল। স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সাধারণত লাল বা লাল-হলুদ মিশ্র শিমুল বেশি দেখা যায়। সম্পূর্ণ হলুদ শিমুল অত্যন্ত বিরল; আগে কখনও এই এলাকায় এমন ফুল চোখে পড়েনি।
প্রতিদিন পার্কে কৌতুহলী মানুষ ভিড় করছেন বিরল গাছটি দেখার জন্য। কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে গাছটি দেখছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। দর্শনার্থীরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন, ‘শিমুল তো লালই হয়, হলুদও হয় নাকি!’
দর্শনার্থী রুপম আচার্য্য বলেন, ‘শিমুল সব সময় লালই দেখেছি। নিজের চোখে হলুদ শিমুল দেখবো ভাবিনি। খুবই ব্যতিক্রম এবং সুন্দর লাগছে।’ কলেজ শিক্ষার্থী সাম্মী আক্তার বলেন, ‘দূর থেকেই গাছটি আলাদা করে চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি ডালে ডালে হলুদ শিমুল ফুল। ছবি না তোলা যায় না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, প্রকৃতির বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ এই গাছ। ‘এ ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যথাযথ সংরক্ষণ জরুরি। বিরল গাছ হিসেবে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন।’
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ শিমুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার এই গাছে ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম হলুদ শিমুল ফুটেছে। এমন দুষ্প্রাপ্য শিমুল আগে কখনও দেখিনি। ভবিষ্যতে পার্কে আরও বিরল ও দুর্লভ ফুলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা আছে।’
গবেষক ও লেখক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘এ অঞ্চলে হলুদ শিমুল খুবই বিরল। গড়ন ও আকৃতিতে এটি লাল শিমুলের মতো হলেও রঙের ভিন্নতায় সৃষ্টি করেছে আলাদা আবেদন। ফুল ফোটার আগে এর পাতাও ঝরে যায়। উজ্জ্বল হলুদ রঙ প্রকৃতিকে অনন্য নান্দনিকতা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির এই ব্যতিক্রম উপহার এখন মৌলভীবাজারের মানুষের কৌতূহল ও আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। হলুদ শিমুল মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির ভাণ্ডার এখনও বিস্ময়ে ভরা।
সিএ/এএ


