সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত আজমেরী হক স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তা কার্যকর করে বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর ৮৬ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান বাধ্যতামূলক। পূর্বেও ১৪ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি পৃথক স্মারকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার (১ মার্চ) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, যারা বিনা অনুমতিতে বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। চিঠিতে মাঠ পর্যায়ের সব অফিসে সময়ানুবর্তিতা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে কর্মস্থল ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি দপ্তরে উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা মেনে চলার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে জোরালো তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সময়ানুবর্তিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয় এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। ফলে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে স্পষ্ট বার্তা মিলেছে, সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বিধিমালা বাস্তবায়নে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।
সিএ/এএ


