ঢাকার অমর একুশে বইমেলায় মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর স্টলে বই দেখছিলেন গাজী রাফি ও তাঁর সহপাঠী নাইমুর রহমান। রাফি উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন এবং তিনি কিনেছেন লতিফুল ইসলাম শিবলীর উপন্যাস দারবিশ। তারা টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনার স্টলের ব্যবস্থাপক শায়লা ইসলাম জানালেন, নিয়মিত পাঠক–ক্রেতা থাকলে বেচাকেনায় কোনো আক্ষেপ থাকে না; কিন্তু এবার মেলায় ক্রেতার সংখ্যা কম। কেন্দ্রবিন্দু মূলত বিদেশি লেখকদের অনুপ্রেরণামূলক বই প্রকাশ করে, সঙ্গে কিছু কবিতা ও উপন্যাসও থাকে। ইদানীং অনুপ্রেরণামূলক বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ বেশি।
বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৫টি। মূল মঞ্চে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলছে। গতকাল আলোচনার বিষয় ছিল জন্মশতবর্ষ: তাজউদ্দীন আহমদ, যেখানে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ, আলোচনা করেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
প্রকাশকরা নতুন বই হিসেবে এনেছেন আবুল বাসারের অনূদিত কার্লো রোভেল্লির Seven Brief Lessons on Physics, প্রথমা প্রকাশনের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ: ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩, বাতিঘরের মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি, স্টুডেন্টের জরিনা আখতারের কবিতা আমি মির্জা গালিব নই, আগামী প্রকাশনীর রাজনৈতিক প্রবন্ধ মজলুম জনতার মাওলানা ভাসানী ও অন্যান্য প্রবন্ধ, অনুপমের মিলন কান্তি নাথের ভূত চতুর্দশী: চিরায়ত ১৪টি ভূতের গল্প এবং ঐতিহ্যের রফিকুল ইসলামের গবেষণাগ্রন্থ ফিরে দেখা বনি ইসরায়েল।
মওদুদ আহমদের চলমান ইতিহাস: জীবনের কিছু সময় কিছু কথা ১৯৯১–২০১৯ বইটিতে তিনি ১৯৯১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রামাণ্য তথ্য ও দালিলিক উদাহরণসহ তুলে ধরেছেন। মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, স্কুল জীবনেই ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে লন্ডনের লিংকনস-ইন থেকে বার–অ্যাট–ল ডিগ্রি লাভ করেন এবং ঢাকার হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকার, পরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সরকারের বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী থেকে উপরাষ্ট্রপতি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
মওদুদ আহমদ অক্সফোর্ড, হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবেও পড়িয়েছেন। তাঁর গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতা পাঠক ও গবেষকদের জন্য মূল্যবান।
সিএ/এমই


