ঢাকার কারওয়ান বাজারে হামলার শিকার প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা দেখতে পান পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, টেবিল, চেয়ার, বই, নথিপত্রসহ ধ্বংসস্তূপ। প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পোড়া গন্ধ অনুভূত হয়। কিছু চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে পোড়া ভবনের দৃশ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি।
আজ সোমবার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক দিদার হাসান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সানাউল্লাহ লাভলু। দিদার হাসান বলেন, ‘আমরা কতটা বর্বর, কতটা মধ্যযুগীয় মানসিকতা ধারণ করি, তার প্রমাণ এই হামলা। এর মাধ্যমে প্রগতিশীলদের বিনাশ করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সেটি সম্ভব নয়, অন্ধকার শেষে আলো আসে।’
শিল্পী মাহবুবুর রহমানের আয়োজন করা ‘আলো’ প্রদর্শনী দুই দিন বাড়িয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ মার্চ পর্যন্ত। প্রদর্শনী সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা ছিল।
প্রদর্শনীতে ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম এবং তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। মোমিনুল বলেন, ‘প্রথম আলো আক্রান্ত হওয়ার পর পাঠকরা পত্রিকা পাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমরা তখন আশ্বস্ত করেছি যে দ্রুতই প্রথম আলো পাঠকদের কাছে ফিরে আসবে। তা–ই হয়েছে।’
প্রদর্শনীতে ঘুরে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘এটি আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতার একটি চিহ্ন। নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার যারা করেছিলেন, তাঁদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শুধু ব্যর্থতা হিসেবে দায় এড়িয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অনুশোচনা ও দায়স্বীকার প্রত্যাশিত ছিল।’
সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘আলো প্রদর্শনীর নিচে যে অন্ধকার, তার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহিতে আনা না হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।’
প্রদর্শনীর দোতলায় পোড়া বই প্রদর্শন করা হয়। অক্ষত বইয়ের একটি প্রদর্শনীতে লেখা রয়েছে ‘এই মহাসাগরে স্নান করে জাগোরে’। দোতলার নথিপত্র, বই, আসবাব ও যন্ত্রাংশের ধ্বংসস্তূপের ওপর রাখা হয়েছে সাদা কফিন। তৃতীয় তলায় পোড়া লোহালক্কড় এবং বৈদ্যুতিক তার প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে গর্জন সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সানজিদা রহমান বলেন, ‘হামলার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা ও অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’ চতুর্থ তলায় হামলার ভিডিও, লুটপাট ও ভাঙচুর করা জিনিসপত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ভাঙচুরের ওপর রাখা হয়েছে একঝাঁক কবুতর।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘এ অনুভূতি পুড়ে যাওয়া উদীচীর স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী, ছায়ানটের ওপর আঘাত প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের প্রধান কাজ হবে এসব হামলার বিচার করা।’
প্রদর্শনীতে গণঅধিকার পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিলেন। এতে উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন কবীর, স্বাস্থ্য বিষয়ক সহসম্পাদক রবিউল ইসলাম ও কাজী হায়াৎ অংশগ্রহণ করেন।
সিএ/এমই


