ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চলতি মৌসুমে বাঙ্গি চাষে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আকারে কিছুটা ছোট হলেও উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ইফতারির জনপ্রিয় ফল হিসেবে বাঙ্গির চাহিদা বাড়ায় সকাল থেকেই ক্ষেত ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় জমে উঠছে বেচাকেনা।
উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামে প্রায় ৫০ জন কৃষক ২৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছেন। ভোর থেকেই ক্ষেত থেকে বাঙ্গি তুলে ঝুড়িতে ভরে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও নসিমন নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে আবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বাঙ্গি কিনে নিচ্ছেন।
সবুজ ক্ষেতজুড়ে হলুদ ফুলে ভরা বাঙ্গির লতাপাতা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। সকাল আটটার পর থেকেই পুরোদমে শুরু হয় বেচাকেনা। ঢাকা, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, রাজশাহী, মাগুরা, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে আসছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঙ্গি শত হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি ১০০ বাঙ্গির দাম ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ঢাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া জানান, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি বাঙ্গিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ টাকা যোগ হয়। ফলে ভাঙ্গা থেকে ৭০ টাকায় কেনা একটি বাঙ্গি ঢাকায় পৌঁছাতে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১০০ টাকা। এ কারণেই খুচরা বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাঙ্গির ওজন ৩ থেকে ৫ কেজির মধ্যে। আকার কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে ভাঙ্গার বাঙ্গির সুনাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৌসুমের শুরুতে ভাইরাসজনিত আক্রমণে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে উৎপাদন হয়েছে সন্তোষজনক। পূর্ব সদরদী গ্রামের কৃষক মাসুদ শেখ জানান, ২০০০ সালের দিকে ১৬ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বাঙ্গি চাষ শুরু করেন তিনি। এবার চার বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ইতিমধ্যে সমপরিমাণ বাঙ্গি বিক্রি করেছেন, এখনও ক্ষেতে প্রচুর ফল রয়েছে। গত বছর বাঙ্গি বিক্রি করে প্রায় আট লাখ টাকা আয় করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
কৃষক কাদের বেপারী দুই বিঘা জমিতে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার ভাষ্য, বাঙ্গি চাষ করেই সংসারের খরচ ও সন্তানের পড়াশোনা চালাতে পারছি। অন্যদিকে কুদ্দুস শেখ তিন বিঘা জমিতে চাষ করে প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন জানান, এ বছর উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে। কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা জৈব ও আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কিছু সমস্যা থাকলেও বর্তমানে চাষিদের মুখে হাসি ফিরেছে।
সিএ/এএ


