ঢাকার হাইকোর্ট ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৬(গ) ধারা নিয়ে রুল দিয়েছেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রোববার এই রুলসহ আদেশ দেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ৬(গ) ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।
আইনটি ২০০৫ সালে প্রণীত হলেও, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ৭ ধারায় ৬(গ) ধারা সন্নিবেশিত হয়। এই ধারা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, বিপণন ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহে মাসুদ উজ জামানসহ ৪১ জন রিট দায়ের করেন। তারা মূলত ই-সিগারেট ও ভ্যাপ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। রিটের শুনানিতে আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী জানালেন, ২০০৫ সালের মূল আইনে এসব দ্রব্যে বিধিনিষেধ ছিল না।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ জারি হওয়ার আগে বৈধভাবে আমদানি করা ভ্যাপ বা ই-সিগারেট জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে না। রুলে বাণিজ্যসচিব ও আইনসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
৬(গ) ধারার মূল বিষয়বস্তু:
- ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস বা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয় বা পরিবহন করা যাবে না।
- লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি: সর্বোচ্চ ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, পুনরাবৃত্তিতে শাস্তি দ্বিগুণ।
- কোম্পানির ক্ষেত্রে: সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দ, মালিক/ব্যবস্থাপক অনূর্ধ্ব ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, পুনরাবৃত্তিতে শাস্তি দ্বিগুণ এবং লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
- ব্যবহারও নিষিদ্ধ।
এই রুলের মাধ্যমে আদালত যাচাই করবেন, ৬(গ) ধারা সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে কি না।
সিএ/এমই


