সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, সালেহ আহমেদ আজমান এলাকায় নিহত হন। তিনি পানি সরবরাহের কাজ করতেন।
সালেহ আহমেদের পুরোনো বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গাজীটেকায় বাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে ইরানে হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার দ্বিতীয় দিনে আমিরাতের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৮টি সাগরে পড়েছে। এছাড়া ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) হামলা শুরুর পর থেকে আমিরাতমুখী ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস এবং ১৩টি সাগরে পতিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়। ৫৪১টি ড্রোনের মধ্যে ৫০৬টি ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ৩৫টি ড্রোন আমিরাতের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়ে জানমালের ক্ষতি করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের তিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের ৫৮ জন নাগরিক আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিক স্থাপনায় হালকা থেকে মাঝারি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
সিএ/এমই


