ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় দুই তরুণী ও এক তরুণকে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) শেষরাতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভুক্তভোগীদের কিল-ঘুষি, লাঠি ও হেলমেট দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি ‘ফ্লাইং কিক’ মারা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী লাঠি হাতে এক নারীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আমরা নিরাপদ না…আমাদের মারধর করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।’
ভিডিও পর্যালোচনা করে মারধরে জড়িত দুই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার তুষার।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘তাঁরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন। ঘটনার ভিডিও দেখে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার ভোর ৪টা ৫৩ মিনিটে একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে এক তরুণ ও এক তরুণী টিএসসি এলাকায় নামেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। মোটরসাইকেল থেকে নামার পরপরই ওই শিক্ষার্থীরা তাঁদের ঘিরে ধরেন।
ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে মোটরসাইকেলচালক তরুণের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে ভুক্তভোগীদের পরিচিত আরও দুই তরুণী ও এক যুবক ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলা এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাথায় একাধিকবার হেলমেট দিয়ে আঘাত করা হয়। পাশাপাশি কিল-ঘুষি ও ‘ফ্লাইং কিক’ মারার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সিএ/এমই


