রাজীব আহমেদ, ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও দেশে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৯ দিনেই বাংলাদেশ ব্যাংকে মব বা উচ্ছৃঙ্খল গ্রুপের তৈরি বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদে বদল ও নতুন লোক নিয়োগ স্বাভাবিক। তবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সর্বস্তরে আইনের শাসন বাস্তবায়নের’ অঙ্গীকার ছিল। দলীয় নেতাদের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, “মব কালচার শেষ।” ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জাতির উদ্দেশে ভাষণে আইনের শাসনকে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বশেষ কথা হিসেবে ঘোষণা করেন।
তবুও দেখা গেল, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ দিন পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে মব তৈরি হয়। ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ব্যাংকের সংস্কার ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন। তাঁকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগের সুযোগ দেয়া যেতে পারত। পরিবর্তে বিতর্কের মাধ্যমে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে, যা সরকারের জন্য সমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরে এবং ভেতরে অনেকেই আহসান এইচ মনসুরের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকেও মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ঘটা ঘটনা, যা দেশের আইন শৃঙ্খলার ওপর প্রশ্ন তোলে।
অন্তর্বর্তী সরকারে মবের ঘটনা শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে সীমাবদ্ধ হয়নি। এর আগের ১৮ মাসে বিভিন্ন স্থানে—সুপ্রীম কোর্ট, সচিবালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়—মব সৃষ্টি করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব সন্ত্রাসে ২৯৩ জন নিহত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পরিস্থিতি সামলাতে না পারায় জনগণ বুঝেছে, শক্তিশালী নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। তাতেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় মব ঘটেছে।
এবার জনগণ অপেক্ষায়, কখন সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে। ‘মব কালচার শেষ’—এটা যেন কেবল কথার কথা না থেকে বাস্তবে রূপ নেয়।
সিএ/এমই


