ইফতারের ঠিক আগে বাড়ি ফেরার আশ্বাস দিয়েও আর ফেরা হলো না ইজি বাইকচালক সোহাগ মিয়ার (২২)। ইফতারের প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে স্ত্রী স্বর্ণাকে ফোন করে তিনি জানান, আরেকটা ভাড়া শেষ করেই বাড়িতে ফিরবেন, ইফতারের প্রস্তুতি রাখতে বলেন। কিন্তু সেই কথার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি এলাকায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় গুরুতর আহত হন সোহাগ। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ মিয়া নান্দাইল উপজেলার ধুরুয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ইজি বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্বল্প আয়ের মধ্যেই চলছিল তার সংসার।
নিহতের চাচাতো ভাই মাজহারুল ইসলাম জানান, সোহাগ নান্দাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে নান্দাইল চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন। ডাংরি এলাকায় পৌঁছালে কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী দুটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসে। ইজি বাইকের কাছাকাছি পৌঁছে পেছনের বাসটি সামনের বাসটিকে অতিক্রম করার সময় সোহাগের ইজি বাইককে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় সোহাগ ছিটকে পড়ে বাসের নিচে চলে যান এবং ঘটনাস্থলেই বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত চালকের স্বজনরা জানান, সোহাগ তার ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। গত ২৫ ডিসেম্বর কিস্তিতে ইজি বাইকটি কিনে তিনি সড়কে নামিয়েছিলেন। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাকে রাস্তায় নামতে হতো।
নান্দাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই চালকসহ ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিএ/এএ


