পবিত্র রমজান মাসকে বরণ করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ঐতিহ্য ও প্রথার চর্চা দেখা যায়। পুরান ঢাকায়, যেমন, লন্ঠন হাতে শিশুরা রমজানের আগমন উদ্যাপন করে। একই সঙ্গে সাহ্রির আগে রোজাদারদের জাগিয়ে তোলার জন্য কাসিদা গান শোনা যেত। কাসিদা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ—প্রশংসা বা প্রশস্তিমূলক কবিতা। ইসলাম ধর্মের প্রথম পর্ব থেকেই আরবি সাহিত্যে কাসিদার একটি বিশাল ভাণ্ডার গড়ে ওঠে। মোগল আমল থেকে পুরান ঢাকায় এই প্রথা চালু হয়।
কাসিদা মূলত রোজাদারদের ঘুম ভাঙানোর জন্য গাওয়া হতো। এছাড়া, ঈদের দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরানা নিয়ে আসত কাসিদা গায়কের দলগুলো। আজকাল মোবাইল ও ইন্টারনেটের আধুনিক যুগে এই প্রথা অনেকটা হারিয়ে গেছে।
কাশ্মীরে সাহরির সময় রোজাদারদের ঘুম ভাঙানোর প্রথা চলমান। সেখানে ‘সাহার খান’ নামে পরিচিত একদল মানুষ পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বাজনার তালে গলা চড়ে ঘোষণা করেন—‘ওয়াক্ত-ই-সাহার’। দিল্লির পুরোনো অংশে একই রেওয়াজকে মুনাদি বলা হয়। তাঁরা কুর্তা, পাজামা ও টুপি পরিধান করে সাহার সময় রোজাদারদের ঘুম ভাঙানোর কাজে অংশ নেন।
মিসরে রাজধানী কায়রোয় ইফতারের সময় জানান দিতে কামানের ব্যবহার হয়। ১৫ শতকের কথা, মামলুক সালতানাতের এক সুলতান একটি কামান পরীক্ষা করতে গিয়ে জনসাধারণ ভাবতে থাকে এটি ইফতারের সময়। তখন থেকে মিসরে এই প্রথা চলে আসছে। ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত আসল কামান ব্যবহার করা হতো, পরবর্তীতে শুধু ফাঁকা আওয়াজ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এটি সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরাক এবং উপসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকার দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
রমজানকে বিভিন্ন দেশে সাজসজ্জার মাধ্যমে বরণ করা হয়। লন্ঠনের ব্যবহার মিসরীয় সভ্যতা থেকে এসেছে। কায়রো, গাজা, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে লন্ঠন দিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকান সাজানো হয়। বাহারি রঙের আলো এবং চাঁদ–তারার নকশা এই মাসে চোখে পড়ে।
আরব দেশগুলোয় রমজানকে সংহতি ও সম্প্রীতির মাস হিসেবে দেখা হয়। মহল্লার সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। মিসরে ইফতারের আয়োজনের সময় সবাই কিছু না কিছু খাবার নিয়ে আসে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালে ‘তেরাঙ্গা’ সংস্কৃতির মাধ্যমে অতিথিপরায়ণতার চর্চা দেখা যায়। সেখানে কেউ এনদোগোউ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সবাই চেষ্টা করে।
সিএ/এমই


