এক সময় দেশের গ্রাম-গঞ্জের নদী-নালা, খাল-বিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য ছিল। তবে পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত চাষাবাদ ও জলাশয় ভরাটের কারণে এসব মাছ ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছিল। সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং সচেতনতার ফলে দেশীয় মাছ আবারও মানুষের পাতে ফিরতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে ভোক্তা এবং জেলেদের মধ্যে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, শিং, মাগুর, টেংরা, কৈসহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশব্যাপী অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী বেড়েরধন নদীতে দেশীয় মাছ সংরক্ষণে অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটও দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের গবেষণার ফলে পাবদা, গুলশা, টাকি ও চিতল মাছের কৃত্রিম প্রজনন সহজ হয়েছে। এতে খামার পর্যায়েও দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশীয় মাছ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাদে অতুলনীয়। গ্রামীণ এলাকায় ছোট মাছ যেমন পুঁটি, মলা ও ঢেলা মাছ মানুষের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে বাজারে এসব মাছের সরবরাহ কম থাকলেও এখন অনেক হাট-বাজারে দেশীয় মাছের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
ঝোঁপখালী গ্রামের জেলে জলিল মৃধা বলেন, সরকারিভাবে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ও প্রণোদনা কার্যক্রম তাদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। নিষিদ্ধ সময়ে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা থাকায় তারা নিয়ম মেনে মাছ ধরছেন। ফলে নদীতে মাছের প্রজনন বেড়েছে এবং ধরা পড়ছে বড় আকারের মাছ।
বেতাগী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তুরান জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে নদীদখল ও দূষণ বন্ধ, অবৈধ জাল ব্যবহার রোধ এবং জলাশয় সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, যাতে ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন না হয়। মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার ফলে হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় প্রজাতির মাছ আবারও মানুষের পাতে ফিরছে।
সিএ/এএ


