ঢাকার পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর, বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দুটি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট ইতিমধ্যে রায় দিয়েছেন। এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে: ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স রায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। তাতে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষও খালাসপ্রাপ্ত বা সাজা কমে যাওয়া ৮৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ২০টি লিভ টু আপিল করেছে। এই আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানি জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে।
অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ এখনো চলেছে। ৮৩৪ আসামির মধ্যে ৫৯ জন মারা গেছেন, ২০ জন পলাতক। এ মামলায় আপাতত ৩০২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর দেশের সামরিক প্রশাসনেও পরিবর্তন এসেছে। বিডিআর পুনর্গঠন করা হয় এবং ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’ করা হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৯৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়, ৮ হাজার ৫৯২ জনকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দিয়ে পরে চাকরিতে বহাল রাখা হয়।
পিলখানায় নিহত সেনাদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
সিএ/এমই


