অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কী করছেন—এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। জানা গেছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পর তিনি রাজধানীর যমুনায় কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী যমুনায় আরও তিন মাস থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি তা ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল যমুনা পরিদর্শন করেছে। ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, মাসখানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন।
ড. ইউনূস পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। পাশাপাশি ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি। অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গেও নিয়মিত সময় কাটাচ্ছেন।
ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন ড. ইউনূস। তার দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হতে পারে।
তিনি বিদেশ সফরের আমন্ত্রণও পাচ্ছেন। কোথায় সরাসরি যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন, সে বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসে জাপানে পাঁচ দিনের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
দৈনন্দিন রুটিনে তিনি সকালে হাঁটাহাঁটি করেন, নাশতার পর কাজ শুরু করেন এবং দেখা করতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। দায়িত্বকালীন ব্যস্ততার কারণে যাদের সময় দিতে পারেননি, এখন তাদের কথা শুনতে আগ্রহী তিনি।
এদিকে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব শেষে তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তিও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
সিএ/এমআর


