অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় মাইকে বাজতে থাকে অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাঁদের স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ দোয়া পরিচালনা করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এরপর তিন বাহিনীর প্রধানেরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরাও দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকেরা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
একুশের প্রথম প্রহরকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চাঁনখারপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিংয়ে ডাইভারশন দেওয়া হয়। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে এসব বিকল্প পথ কার্যকর করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে পলাশীর মোড় ও জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারে যেতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমনা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর বা চাঁনখারপুল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সিএ/এমই


